Blog

  • প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি: অগ্রগতি, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ করণীয়

    প্রোস্টেট ক্যান্সার: পুরুষদের সাধারণ ক্যান্সার

    প্রোস্টেট ক্যান্সার হলো পুরুষদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যান্সার। বিশ্বজুড়ে এটি পুরুষদের দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্যান্সার। উন্নত দেশগুলোতে নিয়মিত স্ক্রিনিং, আধুনিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং উন্নত চিকিৎসার কারণে রোগীরা অনেকদিন বেঁচে থাকেন এবং ভালো মানের জীবনযাপন করতে পারেন। আমাদের দেশে সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও প্রতিবছর হাজারো রোগী এতে আক্রান্ত হন।

    রেডিওথেরাপি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    প্রোস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় তিনটি মূল মাধ্যম রয়েছে:

    • ওষুধ
    • অপারেশন
    • রেডিওথেরাপি

    এর মধ্যে রেডিওথেরাপি একটি বহুল ব্যবহৃত এবং কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি। সহজ ভাষায়, রেডিওথেরাপিতে বিশেষ ধরনের রশ্মি ব্যবহার করে ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করা হয়। এতে সুস্থ কোষের ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং রোগী স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

    আধুনিক রেডিওথেরাপির অগ্রগতি

    গত এক দশকে রেডিওথেরাপিতে বিপুল উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে কম্পিউটারভিত্তিক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্দিষ্টভাবে ক্যান্সার চিকিৎসা করা হয়। যেমন:

    IMRT ও VMAT

    রশ্মি শুধুমাত্র ক্যান্সারের অংশে পড়ে এবং সুস্থ অঙ্গগুলো রক্ষা করা যায়।

    IGRT

    প্রতিটি সেশনে ইমেজিং করে নিশ্চিত করা হয় যে রশ্মি সঠিক স্থানে প্রদান হচ্ছে।

    SBRT

    বিশেষ রোগীর ক্ষেত্রে মাত্র ৫–৭ দিনে পুরো চিকিৎসা সম্পন্ন করা যায়।

    উন্নত দেশের অগ্রগতি
    • হাইপোফ্র্যাকশোনেশন: কম দিনে বেশি ডোজ দিয়ে চিকিৎসা, যাতে সময় ও খরচ দুই-ই কমে।
    • প্রোটন থেরাপি: আরও উন্নত রেডিয়েশন প্রযুক্তি চালু রয়েছে।

    বাংলাদেশের বাস্তবতা

    বাংলাদেশে কিছু সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আধুনিক LINAC মেশিন স্থাপন করা হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বড় শহরে IMRT ও VMAT প্রযুক্তি চালু হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় মেশিনের সংখ্যা অনেক কম, ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

    সীমাবদ্ধতা

    • প্রশিক্ষিত জনবল কম
    • অনেক কেন্দ্রে এখনও পুরনো কোবাল্ট মেশিন ব্যবহার
    • পর্যাপ্ত রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, ফিজিসিস্ট ও টেকনোলজিস্টের ঘাটতি

    প্রধান চ্যালেঞ্জ

    যন্ত্রপাতির ঘাটতি

    নতুন যন্ত্র না থাকা বা পুরনো যন্ত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চিকিৎসা বিলম্বিত হয়।

    দেরিতে রোগ শনাক্ত

    প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে উপসর্গহীন থাকায় রোগীরা দেরিতে চিকিৎসা নেন।

    খরচের বোঝা

    বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, যা অনেকের নাগালের বাইরে।

    গবেষণার অভাব

    দেশীয় ডেটা না থাকায় নীতি বা গাইডলাইন তৈরি করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

    করণীয়

    সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ

    • প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আধুনিক LINAC সম্বলিত ক্যান্সার হাসপাতাল স্থাপন।
    • নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা।
    • ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের PSA টেস্ট ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা উৎসাহিত করা।
    • হাইপোফ্র্যাকশোনেশন ও SBRT নিয়ে স্থানীয় গবেষণা চালু করা।
    • যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ নেওয়া।

    প্রোস্টেট ক্যান্সারে রেডিওথেরাপির গুরুত্ব

    প্রোস্টেট ক্যান্সারে রেডিওথেরাপি বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার অন্যতম স্তম্ভ। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে রোগীরা দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার পাশাপাশি ভালো মানের জীবনযাপনও করতে পারেন।

    বাংলাদেশের সম্ভাবনা

    যন্ত্রপাতির অভাব ও সচেতনতার সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পরিকল্পিত বিনিয়োগ, জনবল প্রশিক্ষণ ও জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।

    প্রোস্টেট ক্যান্সারে রেডিওথেরাপি নিয়ে সাধারণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

    প্রোস্টেট ক্যান্সার কী?

    প্রোস্টেট ক্যান্সার হলো পুরুষদের প্রোস্টেট গ্রন্থিতে হওয়া এক ধরনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। এটি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং চিকিৎসা না করলে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    প্রোস্টেট ক্যান্সার সাধারণত কোন বয়সে বেশি হয়?

    সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের মধ্যে এই ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। বয়স বাড়ার সাথে ঝুঁকিও বাড়তে থাকে।

    প্রোস্টেট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?

    • ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রয়োজন
    • প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া বা কষ্ট
    • রাতে বারবার প্রস্রাবের চাপ
    • প্রস্রাবে রক্ত
    • মেরুদণ্ড বা হাড়ে ব্যথা (পরবর্তী পর্যায়ে)

    রেডিওথেরাপি কিভাবে কাজ করে?

    রেডিওথেরাপিতে উচ্চ-শক্তির বিশেষ রশ্মি ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করে। এতে ক্যান্সারের বৃদ্ধি থেমে যায় এবং সুস্থ কোষ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে।

    রেডিওথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী হতে পারে?

    • ক্লান্তি
    • প্রস্রাবের সমস্যা
    • হালকা ডায়রিয়া
    • যৌন সমস্যার ঝুঁকি
      তবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে এগুলোর মাত্রা অনেক কমে এসেছে।

    প্রোস্টেট ক্যান্সারের জন্য কতদিন রেডিওথেরাপি নিতে হয়?

    চিকিৎসার ধরণ ও রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভর করে। প্রচলিত চিকিৎসায় ৭–৮ সপ্তাহ সময় লাগে, তবে SBRT বা হাইপোফ্র্যাকশোনেশন ব্যবহারে মাত্র ১–২ সপ্তাহেও চিকিৎসা সম্পন্ন করা সম্ভব।

    বাংলাদেশে কোথায় রেডিওথেরাপি পাওয়া যায়?

    ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কিছু বড় শহরের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে আধুনিক LINAC মেশিন ব্যবহার করে রেডিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত মেশিন নেই।


    চূড়ান্ত কথা

    প্রোস্টেট ক্যান্সার এখন পুরুষদের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি। রেডিওথেরাপি এর চিকিৎসায় বৈপ্লবিক অগ্রগতি এনেছে, যা রোগীকে দীর্ঘায়ু ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ দেয়। বাংলাদেশে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও, সচেতনতা বৃদ্ধি, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, জনবল প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রোস্টেট ক্যান্সার মোকাবিলা করা সম্ভব।

  • যে মারাত্মক বিপদ ডেকে আনছেন টয়লেটে বসে ফোন স্ক্রল করে

    আমাদের অনেকেরই অভ্যাস আছে টয়লেটে বসে স্মার্টফোন স্ক্রল করার। কিন্তু জানেন কি, এই অভ্যাস শুধু সময়ের অপচয় নয়, বরং আপনার স্বাস্থ্যের জন্যও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। সাম্প্রতিক এক মার্কিন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, টয়লেটে বসে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করলে অর্শ বা পাইলস হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়।

    পাইলস বা অর্শ কী?


    প্রত্যেক সুস্থ মানুষের শরীরেই স্বাভাবিকভাবে অর্শ থাকে, যাকে পাইলস বা হ্যামোরয়েডস বলা হয়। এটি মূলত পায়ুমুখের ভেতরে অবস্থিত কিছু নরম টিস্যু ও রক্তনালীর গুচ্ছ, যা মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণ অবস্থায় এগুলো কোনো সমস্যার সৃষ্টি করে না, তবে ফুলে উঠলে বা প্রদাহ হলে ব্যথা, রক্তপাত, চাকা অনুভূত হওয়া কিংবা মলদ্বারের বাইরে কিছু বেরিয়ে আসার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।

    অর্শ হওয়ার ঝুঁকি কার বেশি?

    • ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের
    • গর্ভবতী নারীদের
    • অতিরিক্ত ওজনধারীদের
    • দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ায় ভোগা ব্যক্তিদের
    • নিয়মিত ভারী জিনিস তোলেন যাদের
    • যারা দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকেন

    টয়লেটে স্মার্টফোন ব্যবহারে কী হয়?


    গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘক্ষণ কমোডে বসে থাকলে পেলভিক ফ্লোরে চাপ বেড়ে যায় এবং অর্শের রক্তনালীগুলোতে রক্ত জমে যায়। এর ফলে অর্শ ফুলে ওঠে ও বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।

    গবেষণার ফলাফল


    যুক্তরাষ্ট্রের বেথ ইসরাইল ডিকনেস মেডিকেল সেন্টার ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ১২৫ জনকে নিয়ে এই গবেষণা চালায়। তাদের কলোনোস্কোপি করে অভ্যন্তরীণ অর্শ সরাসরি দেখা হয়। দেখা যায়, ৬৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী টয়লেটে বসে ফোন ব্যবহার করতেন এবং তারা গড়ে ৫ মিনিটের বেশি সময় সেখানে কাটাতেন। অন্যদিকে, যারা ফোন ব্যবহার করতেন না কিন্তু ৫ মিনিটের বেশি সময় বসতেন, তাদের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭ শতাংশ। ফলে প্রমাণিত হয়, টয়লেটে ফোন ব্যবহারকারীদের অর্শ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি।

    গবেষণার সীমাবদ্ধতা


    তথ্য সংগ্রহে অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতির উপর নির্ভর করা হয়েছে, যেমন কতক্ষণ বসেছিলেন বা চাপ দিয়েছিলেন কিনা, যা সবসময় নির্ভরযোগ্য নাও হতে পারে। এছাড়া নমুনার সংখ্যা কম ছিল এবং সবাই ৪৫ বছরের বেশি বয়সী হওয়ায় এটি পুরো জনগোষ্ঠীর প্রতিফলন নয়।

    আগের গবেষণাগুলো কী বলেছে?


    ২০২০ সালের একটি তুর্কি গবেষণায়ও প্রমাণিত হয়েছিল, টয়লেটে ৫ মিনিটের বেশি সময় কাটানো অর্শের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে ইতালিতে পরিচালিত আরেকটি গবেষণায় ৫২ জন অর্শ রোগীর মধ্যে দেখা গেছে, টয়লেটে যত বেশি সময় কাটানো হয়, অর্শ তত বেশি গুরুতর হয়ে ওঠে।

    চলুন বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরি—

    কেন টয়লেটে বেশি সময় বসা বিপজ্জনক?
    টয়লেটে দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে শুধু অর্শ নয়, আরও অনেক শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেলভিক ফ্লোরে অতিরিক্ত চাপ পড়লে রক্ত সঞ্চালনে ব্যাঘাত ঘটে, ফলে রক্ত জমাট বাঁধা, ব্যথা এবং প্রদাহ হতে পারে। এছাড়া, যারা দীর্ঘক্ষণ ফোন স্ক্রল করতে করতে টয়লেটে বসে থাকেন, তাদের মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ পড়ে কোমর ও পিঠের ব্যথার সমস্যাও তৈরি হতে পারে।

    কীভাবে অর্শ থেকে রক্ষা পাবেন?

    • সঠিক খাদ্যাভ্যাস: আঁশযুক্ত খাবার, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।
    • পর্যাপ্ত পানি পান: প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করলে মল নরম থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়।
    • নিয়মিত ব্যায়াম: শরীরচর্চা রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে এবং হজমশক্তি বাড়ায়।
    • টয়লেটে ফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন: প্রয়োজনে ফোনটি বাইরে রেখে টয়লেটে প্রবেশ করুন।
    • টয়লেটে সময় সীমিত করুন: প্রয়োজনীয় সময়ের বেশি টয়লেটে বসে থাকবেন না।.

    চিকিৎসকের পরামর্শ


    যদি অর্শের উপসর্গ যেমন রক্তপাত, ব্যথা বা মলদ্বারের বাইরে গুটি অনুভূত হয়, তবে অবশ্যই দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে সহজেই সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

    শেষকথা


    টয়লেটে বসে স্মার্টফোন ব্যবহার আপাতদৃষ্টিতে ক্ষতিকর মনে না হলেও এটি আসলে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি ডেকে আনতে পারে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, দীর্ঘ সময় বসে থাকা এবং ফোন ব্যবহার অর্শ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় অর্ধেকেরও বেশি বাড়িয়ে দেয়। তাই অভ্যাস পরিবর্তনই হতে পারে সুস্থ থাকার প্রথম ধাপ। নিজের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এখনই সচেতন হন এবং টয়লেটে ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

    অর্শ প্রতিরোধে জীবনযাত্রার পরিবর্তন

    অর্শ একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য। শুধু খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়। উদাহরণস্বরূপ—

    • আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান: শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, গম, ওটস ইত্যাদি নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে।
    • ঝাল ও তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কমান: এসব খাবার হজমে সমস্যা সৃষ্টি করে এবং অর্শের লক্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
    • প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলুন: ফাস্টফুড, জাংক ফুড ও অতিরিক্ত চিনি শরীরের জন্য ক্ষতিকর এবং হজমপ্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে।
    • নিয়মিত পানি পান করুন: শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে মল শক্ত হয় এবং মলত্যাগে সমস্যা হয়।
    • সক্রিয় জীবনযাপন করুন: প্রতিদিন হালকা হাঁটা বা ব্যায়াম করলে রক্তসঞ্চালন ভালো হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে।

    টয়লেটে ফোন ব্যবহার কেন এড়িয়ে চলবেন?

    অনেকেই মনে করেন টয়লেটে বসে কয়েক মিনিট ফোন ব্যবহার ক্ষতিকর নয়। কিন্তু গবেষণা বলছে, এই সামান্য সময়ও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। ফোন হাতে থাকলে সময়ের হিসাব ভুলে যায় এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় বসে থাকা হয়। এতে পেলভিক ফ্লোরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি হয়, যা অর্শের ঝুঁকি বাড়ায়।


    অর্শের প্রাথমিক উপসর্গগুলো কী কী?

    অর্শের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে রাখলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    • মলত্যাগের সময় রক্তপাত
    • মলদ্বারে ব্যথা বা জ্বালা অনুভূত হওয়া
    • মলদ্বারের চারপাশে গুটি বা ফোলাভাব
    • চুলকানি ও অস্বস্তি
    • দীর্ঘ সময় বসে থাকতে অসুবিধা

    চিকিৎসার উপায়

    অর্শ সাধারণত দুইভাবে চিকিৎসা করা হয়—
    ১. ঔষধ ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন: প্রাথমিক পর্যায়ে ওষুধ, মল নরম করার ওষুধ, সাপোজিটরি বা ক্রিম ব্যবহার করা হয়।
    ২. শল্যচিকিৎসা: যদি অর্শ জটিল বা গুরুতর হয়, তবে সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে লেজার সার্জারি বা নন-ইনভেসিভ চিকিৎসা পদ্ধতিও প্রচলিত।


    টয়লেটে বসে স্মার্টফোন ব্যবহার করা আপাতদৃষ্টিতে নিরীহ অভ্যাস মনে হলেও এটি দীর্ঘমেয়াদে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, এই অভ্যাস অর্শ হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৪৬% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। তাই সুস্থ থাকতে হলে এখনই এই অভ্যাস বদলাতে হবে। মনে রাখবেন, স্বাস্থ্যই সম্পদ—আর এই ছোট্ট পরিবর্তন আপনার জীবনকে করবে অনেক বেশি আরামদায়ক ও ঝুঁকিমুক্ত।

  • কাঁঠালের বীজ : চুল পড়া ও মানসিক উদ্বেগ কমায়

    কাঁঠালের বীজ : চুল পড়া ও মানসিক উদ্বেগ কমায়

    কাঁঠালের বীজের স্বাস্থ্য উপকারিতা জানেন কি? এই পুষ্টিকর উপাদান রোগ প্রতিরোধ থেকে ত্বক-চুলের যত্ন পর্যন্ত নানাবিধ উপকার করে। জেনে নিন বিস্তারিত।

    কাঁঠাল বীজের পুষ্টিগুণ

    বাংলাদেশের জাতীয় ফল কাঁঠাল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিতেও অনন্য। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠাল বীজে পাওয়া যায়:

    • ১৮৫ ক্যালোরি শক্তি
    • ৭ গ্রাম প্রোটিন
    • ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট
    • ১.৫ গ্রাম ফাইবার
    • ১ গ্রামেরও কম চর্বি

    এতে রয়েছে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ফসফরাস ও ভিটামিন-এ, বি, সি-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান।

    কাঁঠাল বীজের ১১টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

    ১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাগুণ সংক্রমণ রোধ করে
    ২. হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য: আয়রন ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে
    ৩. হজমশক্তি উন্নত: উচ্চ ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
    ৪. দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি: ভিটামিন-এ চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
    ৫. পেশি গঠন: উচ্চ প্রোটিন শরীরের শক্তি বাড়ায়
    ৬. ত্বকের উজ্জ্বলতা: অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বলিরেখা কমায়
    ৭. চুল পড়া রোধ: ভিটামিন-এ ও প্রোটিন চুল শক্ত করে
    ৮. রক্তশূন্যতা দূর: আয়রন হিমোগ্লোবিন উৎপাদন বাড়ায়
    ৯. মানসিক চাপ কমায়: ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ু শান্ত করে
    ১০. যৌন স্বাস্থ্য: প্রাকৃতিক অ্যাফ্রোডিজিয়াক হিসেবে কাজ করে
    ১১. ত্বকের আর্দ্রতা: এক্সিমা ও ব্রণ প্রতিরোধ করে

    কীভাবে খাবেন কাঁঠাল বীজ?

    • সিদ্ধ করে নাস্তায় খেতে পারেন
    • শুকিয়ে গুঁড়ো করে স্যুপ বা স্মুদিতে মিশিয়ে নিন
    • ভেজে লবণ দিয়ে খেতে পারেন স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স হিসেবে
    • দুধ ও মধুর সঙ্গে পেস্ট করে ত্বকের ম্যাস্ক হিসেবে ব্যবহার করুন

    কাঁঠালের বীজের পুষ্টিগুণ ও ১১টি স্বাস্থ্য উপকারিতা

    কাঁঠালের বীজ, গ্রীষ্মকালীন ফল কাঁঠালের অন্যতম পুষ্টিকর অংশ। অনেকেই এই বীজকে ফেলনা ভাবলেও, এতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁঠালের বীজে পাওয়া যায় প্রায় ১৮৫ ক্যালোরি, ৭ গ্রাম প্রোটিন, ৩৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৫ গ্রাম খাদ্যআঁশ। এছাড়া এতে চর্বির পরিমাণ ১ গ্রামেরও কম, যা একে করে তুলেছে ওজন সচেতনদের জন্য আদর্শ একটি খাবার।

    ১. সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর

    কাঁঠালের বীজে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ডস ফাঙ্গাল এবং ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর।

    ২. মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রের সুস্থতায়

    এই বীজে বিদ্যমান আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। যা হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

    ৩. হজমশক্তি ও পাচনতন্ত্রের উন্নয়ন

    উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকার ফলে কাঁঠালের বীজ হজম শক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায় এবং প্রাকৃতিক প্রিবায়োটিক হিসেবে অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

    ৪. দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে

    বীজে থাকা ভিটামিন-এ চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়ক। এটি রাতকানা, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও ক্যাটারাক্টের ঝুঁকি কমায়

    ৫. পেশি গঠন ও শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা

    উচ্চ প্রোটিনযুক্ত কাঁঠালের বীজ পেশি গঠনে সাহায্য করে এবং শক্তি যোগায়। এতে থাকা জিংক ও ফসফরাস হাড় ও পেশির স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

    ৬. ত্বকের উজ্জ্বলতা ও বয়সের ছাপ কমাতে

    বীজে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস, ফ্ল্যাভোনয়েডস ও ফেনোলিক কম্পাউন্ডস ত্বকের বলিরেখা কমিয়ে ত্বককে করে তোলে উজ্জ্বল ও কোমল। দুধ ও মধুর সঙ্গে বীজের পেস্ট লাগালে প্রাকৃতিক গ্লো পাওয়া যায়।

    ৭. চুলের গঠন ও স্বাস্থ্য বজায় রাখতে

    ভিটামিন-এ, প্রোটিন ও আয়রন চুলের গোড়া মজবুত করে, কেরাটিন উৎপাদনে সহায়তা করে এবং চুল পড়া ও চুল ফাটা প্রতিরোধে কার্যকর।

    ৮. রক্তাল্পতা প্রতিরোধে

    কাঁঠালের বীজে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করতে কার্যকর। এটি হিমোগ্লোবিন বাড়িয়ে শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়।

    ৯. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ হ্রাসে সহায়ক

    ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স স্নায়ুর কার্যকারিতা বাড়িয়ে স্ট্রেস ও অ্যাংজাইটি কমায়। এটি সেরোটোনিন ও ডোপামিন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    ১০. যৌনস্বাস্থ্য ও প্রজনন ক্ষমতায় উন্নতি

    প্রাকৃতিক অ্যাফ্রোডিজিয়াক হিসেবে পরিচিত কাঁঠালের বীজ জিংক ও আয়রনের মাধ্যমে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রজনন স্বাস্থ্য উন্নত করে। এটি এশিয়ার অনেক দেশে ঐতিহ্যবাহী ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

    ১১. ত্বকের আর্দ্রতা ও সংক্রমণ প্রতিরোধ

    বীজে থাকা উপাদান ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং ব্রণ, এক্সিমা ও অন্যান্য সংক্রমণ প্রতিরোধে সহায়তা করে

    কাঁঠালের বীজ শুধুমাত্র স্বাদের জন্য নয়, বরং এটি পুষ্টি, রোগপ্রতিরোধ ও সৌন্দর্য রক্ষায় অনন্য। কম খরচে উচ্চ পুষ্টিমূল্যের এই খাদ্য উপাদান আপনার দৈনন্দিন ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করুন, স্বাস্থ্য উপকারিতা নিজেই বুঝতে পারবেন।

  • লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

    লিভার সিরোসিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ

    বাংলাদেশে ফ্যাটি লিভারের ভয়াবহতা

    বাংলাদেশে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত, যাদের মধ্যে অন্তত ১ কোটি লিভার সিরোসিস বা ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। গ্লোবাল ফ্যাটি লিভার দিবসে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই রোগকে মহামারীর রূপ দিচ্ছে। মজার বিষয় হলো, ৯০% রোগীই জানেন না তারা এই সমস্যায় ভুগছেন, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।

    ফ্যাটি লিভার কেন এত বিপজ্জনক?

    ফ্যাটি লিভার শুধু লিভারের জন্যই ক্ষতিকর নয়, এটি ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়ায়। বারডেমের লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. গোলাম আযমের মতে, “যারা দিনে ৫ ঘণ্টার বেশি বসে কাজ করেন, ফাস্ট ফুড খান এবং হাঁটাচলা কম করেন, তাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।” বিশেষজ্ঞরা জানান, ফ্যাটি লিভার এখন ভাইরাল হেপাটাইটিসকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং এটি ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সৃষ্টি করে শরীরের বিপাকক্রিয়াকে ব্যাহত করে।

    কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

    ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধে বিশেষজ্ঞরা নিম্নলিখিত পরামর্শ দিয়েছেন:

    • দৈনিক ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন
    • ভাত ও কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে শাকসবজি বাড়ান
    • বাইরের ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন
    • বাচ্চাদের জন্য খেলার সুযোগ তৈরি করুন
    • নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করান

    সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. মতিউর রহমানের মতে, “শুধু চিকিৎসা নয়, খাদ্যনীতি থেকে শুরু করে নগর পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে। স্কুলে বাচ্চাদের খেলার সুযোগ না দিলে তারা বড় হয়ে স্থূলতা ও লিভার রোগে ভুগবে।”

  • আবারও পর্দায় ফিরছেন গোবিন্দ!

    আবারও পর্দায় ফিরছেন গোবিন্দ!

    বলিউডের স্বর্ণযুগের ‘কমেডি কিং’ খ্যাত গোবিন্দ রোমান্টিক কমেডি জগতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন। তবে ক্যারিয়ারের শেষদিকে সময়ের সাথে তাল মেলাতে না পেরে ধীরে ধীরে কমতে থাকে তার সিনেমার জনপ্রিয়তা। সালমান খানের সাথে ‘পার্টনার’ (২০০৭) ছিল তার শেষ বড় হিট, এরপর একের পর এক ফ্লপ সিনেমা এবং রাজনীতিতে ব্যস্ততা তাকে বলিউড থেকে দূরে রাখে। কিছুদিন আগে অভিনয় থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও স্ত্রী সুনিতা এবং ভক্তদের অসন্তোষের মুখে পড়েন তিনি।

    সম্প্রতি গোবিন্দের একটি নতুন লুকের ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে গোঁফসমেত একদম ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। এই পরিবর্তন দেখে নেটিজেনরা অনুমান করছেন, তিনি হয়তো আবারও সিনেমায় ফিরতে চলেছেন। কেউ কেউ আবার মনে করছেন এটি গোবিন্দ নন, তারই মতো দেখতে কেউ। যাই হোক, এই নতুন লুক নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে ব্যাপক আলোচনা। উল্লেখ্য, ‘পার্টনার’র পর তার কোনো সিনেমাই বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি, বারবার ফিরে আসার চেষ্টা করেও তিনি দর্শকদের মন জয় করতে পারেননি।

    গোবিন্দের এই নতুন রূপ কি আসলেই বলিউডে ফেরার ইঙ্গিত? নাকি এটি শুধুই একটি ভিন্ন স্টাইল এক্সপেরিমেন্ট? ভক্তরা অপেক্ষায় রয়েছেন তার কোনো অফিসিয়াল ঘোষণার। একদিকে যেমন তার অবসরের ঘোষণা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে এই নতুন লুক নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আবারও আলোচনায় রয়েছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

    সংগৃহীত

  • সমু চৌধুরীর ভাইরাল ভিডিও: অভিনেতার অবস্থান নিয়ে শোরগোল

    সমু চৌধুরীর ভাইরাল ভিডিও: অভিনেতার অবস্থান নিয়ে শোরগোল

    নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল ভিডিও ও ছবি। জানুন কী ঘটেছিল এবং অভিনেতার ব্যাখ্যা।

    নব্বই দশকের টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা সমু চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ জুন) দুপুরে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মুখী শাহ্ মিসকিন মাজারের কাছে একটি গাছের নিচে খালি গায়ে শুয়ে থাকার ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হয়। দৃশ্যটি দেখে ভক্তরা হতবাক হয়ে যান এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ এগিয়ে আসে তাকে উদ্ধার করতে।

    ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় সমু চৌধুরী বলেন, “আমি এখানে এক কাপড়ে এসেছিলাম। কাপড় ধোয়ার পর অন্য কোনো পোশাক না থাকায় গামছা পরে গাছের নিচে শুয়েছিলাম। উঠে দেখি সারা দেশে ছবি ও ভিডিও ভাইরাল।” তিনি আরও জানান, পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠানোর কথা ভেবেছিল, কিন্তু পরে পরিস্থিতি বুঝে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিনেতা তার ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, যারা তার খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

    সমু চৌধুরী ১৯৯০ সালের ২২ মার্চ বিটিভিতে প্রচারিত ‘সমৃদ্ধ অসীম’ নাটকের মাধ্যমে টেলিভিশনে আত্মপ্রকাশ করেন। পরবর্তীতে তিনি অসংখ্য নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে আমজাদ হোসেনের ‘আদরের সন্তান’ ছবিতে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। কিছু বছর অভিনয় থেকে দূরে থাকার পর শিল্পী ঐক্য জোটের মাধ্যমে তিনি আবার পর্দায় ফিরে আসেন এবং নিয়মিত কাজ করছেন। অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, সমু চৌধুরীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তিনি ভালো আছেন।

    সংগৃহীত

  • গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ও প্রতিকার

    গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস: মা ও শিশুর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি ও প্রতিকার

    গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস মা ও শিশুর জন্য কতটা বিপজ্জনক? জানুন ঝুঁকি, জটিলতা ও প্রতিরোধের উপায়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য।

    গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের মারাত্মক ঝুঁকিসমূহ

    গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস মা ও গর্ভের শিশু উভয়ের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। গর্ভের শেষ ৪-৮ সপ্তাহে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শিশুর মৃত্যুঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এসময় শিশুর ওজন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায় (ম্যাক্রোসোমিয়া), যা প্রায়শই সিজারিয়ান ডেলিভারি অপরিহার্য করে তোলে। জন্মের পর শিশু হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। মায়ের ক্ষেত্রে অ্যামোনিওটিক ফ্লুইড বৃদ্ধি (পলি হাইড্রোমিনিয়াস), উচ্চ রক্তচাপ ও একলাম্পশিয়ার মতো জীবনঘাতী অবস্থা দেখা দিতে পারে।

    গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (GDM): কারণ ও সনাক্তকরণ

    যেসব মায়ের গর্ভধারণের আগে ডায়াবেটিস নেই, তাদেরও ২৪-২৮ সপ্তাহে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (GDM) দেখা দিতে পারে। এটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে গর্ভে শিশুর মৃত্যু বা জন্মপরবর্তী জটিলতা দেখা দেয়। GDM সনাক্ত করতে ২৪-২৮ সপ্তাহে ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্ট টেস্ট (OGTT) করা হয়। ৮-১০ ঘণ্টা উপবাসের পর রক্ত পরীক্ষা করে গ্লুকোজ পান করানো হয় এবং ২ ঘণ্টা পর পুনরায় পরীক্ষা করা হয়। প্লাজমা গ্লুকোজ ৫.৬ mmol/L (উপবাসে) বা ৭.৮ mmol/L (২ ঘণ্টা পর) এর বেশি হলে GDM ধরা পড়ে।

    প্রতিকার ও চিকিৎসা: মা ও শিশুর সুরক্ষা

    গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই:

    • নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
    • সুষম খাদ্যাভ্যাস ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ করুন
    • হালকা ব্যায়াম (ডাক্তারের পরামর্শে) করুন
    • প্রয়োজনে ইনসুলিন থেরাপি নিন

    গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করলে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ থাকবে। তাই গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন থাকুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

    সংগৃহীত

  • বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫ শনাক্ত, মৃত্যু শূন্য

    বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫ শনাক্ত, মৃত্যু শূন্য

    বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানুন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫ জন শনাক্ত, মৃত্যু নেই, সুস্থ ৬ জন – স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য।

    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। নতুন শনাক্তের মাধ্যমে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৪৭ জনে। উল্লেখ্য, আগের দিনের তুলনায় শনাক্তের হার প্রায় ৬৭ শতাংশ বেড়েছে।

    গতকালের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সময়ে ৬ জন করোনা রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৩ জন। মহামারি শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৩.০৫ শতাংশ, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ছিল ১২.২০ শতাংশ।

    বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় ২০২০ সালের ৮ মার্চ ৩ জনের দেহে। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০২১ সালের ৫ ও ১০ আগস্ট দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল – দুদিনই ২৬৪ জন করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি: ২৪ ঘণ্টায় নতুন ৫ শনাক্ত, মৃত্যু শূন্য

  • নিজের চারপাশে এমন মানুষ রাখুন যাদের আপনি বিশ্বাস করেন: রাশমিকা

    নিজের চারপাশে এমন মানুষ রাখুন যাদের আপনি বিশ্বাস করেন: রাশমিকা

    দক্ষিণী সুপারস্টার রাশমিকা মান্দানা সাম্প্রতিক কিছু ছবি শেয়ার করে নেটিজেনদের মধ্যে সৃষ্টি করেছেন উত্তেজনা। শাড়ি পরা অবস্থায় তোলা এসব ছবিতে ক্যাপশন দিয়েছেন, “এখানে আছে আমার সব প্রিয় জিনিস – রং, পরিবেশ, স্থান, সেই শাড়ি এবং ফটোগ্রাফার”। নেটিজেনদের অনেকে দাবি করছেন, ছবিগুলো তেলুগু সুপারস্টার বিজয় দেবরাকোন্ডার বাড়িতে তোলা এবং ফটোগ্রাফার স্বয়ং বিজয়। এমনকি শাড়িটি বিজয়ের মায়ের উপহার বলেও দাবি করা হচ্ছে, যদিও বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হয়নি।

    এক ভক্তের “জীবনের কঠিন সময় কীভাবে সামলাবেন?” প্রশ্নের জবাবে রাশমিকা মান্দানা দিয়েছেন গভীর জীবনদর্শনের উত্তর। তিনি বলেন, “শুধু শ্বাস নিন, বিশ্বস্ত মানুষদের কাছে থাকুন এবং বিশ্বাস রাখুন এই সময়ও পার হবে। প্রতিদিন একটু করে সামলে উঠুন, একদিন দেখবেন আপনি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন”। এই উপদেশ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

    ছবি: সংগৃহীত

    রাশমিকা মান্দানা বর্তমানে তেলুগু সিনেমা ‘কুবেরা’তে ধানুশ ও নাগার্জুনা আক্কিনেনির সাথে কাজ করছেন, যা জুন মাসে মুক্তি পাবে। ইতিমধ্যেই পুষ্পপা: দ্য রাইজ, অ্যানিম্যালের মতো ব্লকবাস্টার সিনেমার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্যান-ইন্ডিয়া তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই অভিনেত্রীর প্রতিটি প্রজেক্টই এখন দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

  • স্টারলিংক বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে: জানুন মূল প্যাকেজ ও সুবিধা

    স্টারলিংক বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে: জানুন মূল প্যাকেজ ও সুবিধা

    এলন মাস্কের স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে চালু হয়েছে! জানুন স্টারলিংকের প্যাকেজ, দাম ও কীভাবে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেশের ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপ বদলে দেবে।

    বিশ্বখ্যাত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী স্টারলিংক আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে। ২০ মে এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ সব জায়গায় উচ্চগতির (৩০০ এমবিপিএস পর্যন্ত) ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেবে, যা ব্যবসা, শিক্ষা, ফ্রিল্যান্সিং এবং এনজিও কার্যক্রমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।

    স্টারলিংকের প্যাকেজ ও মূল্য: কোনটি আপনার জন্য সঠিক?

    স্টারলিংক বাংলাদেশে দুটি প্রধান প্যাকেজ চালু করেছে:

    • স্টারলিংক রেসিডেন্স: মাসিক ৬,০০০ টাকা
    • রেসিডেন্স লাইট: মাসিক ৪,২০০ টাকা
      এছাড়াও ব্যবহারকারীদের এককালীন ৪২,০০০ টাকা খরচ করে সেটআপ কিট কিনতে হবে। উভয় প্যাকেজেই রয়েছে আনলিমিটেড ডেটা ব্যবহারের সুবিধা এবং কোনো স্পিড লিমিট নেই।

    ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের মতে, স্টারলিংকের আগমন বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিকাঠামোর জন্য একটি মাইলফলক। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ফাইবার বা উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছায়নি, সেখানে এই সেবা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এনজিও কর্মী, ফ্রিল্যান্সার এবং উদ্যোক্তারা এখন বছরজুড়ে স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগ পাবেন, যা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।